সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম

সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম অনেক ছাত্র-ছাত্রী জানেনা।

ক্যালকুলেটরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেটিং থাকে যা তোমাদের জানা থাকে না। এখন আমি তোমাদের কয়েকটি সেটিং এবং বাটনের কাজ দেখাবো, যে কাজ গুলো তোমরা অনেকে জানো না।

SHIFT বাটন এর কাজ :- এখানে লক্ষ্য কর SHIFT লেখাটা যে কালারের অর্থাৎ Yellow কালার তোমার যদি সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরে Yellow  কালার এর কোন বাটন এর মানের  প্রয়োজন হয় তাহলে তোমাকে প্রথমে SHIFT বাটন চাপতে হবে, তার পর তোমার প্রয়োজন অনুযায়ী Yellow বাটন গুলোর কাজ করতে পারবে।

আমি যদি  একটা উদাহরণ দিই তোমার

সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম

Cube root এর মান প্রয়োজন। তাহলে তোমার সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরে লক্ষ্য কর এখানে Cube root এর  কালার হচ্ছে Yellow এ জন্য তোমাকে প্রথমে SHIFT বাটন চাপতে হবে, তার পর Root বাটনটি চাপলে তোমার ক্যালকুলেটরে ডিসপ্লেতে মানটি দেখা যাবে।

একই ভাবে তোমার যদি  STO, sin-, cos-, tan-, CONV এ জাতীয় Yellow কালার এর মানের প্রয়োজন হয় তাহলে তোমাকে প্রথমে SHIFT বাটন চাপতে হবে। তার পর তোমার যে মানটি প্রয়োজন সে মানটির বাটন প্রেস করলে ডিসপ্লেতে মানটি প্রদর্শিত হবে।

ALPHA বাটন এর কাজ:- SHIFT আর ALPHA বাটন এর কাজের সিস্টেম একই। এখন তোমার সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরে লক্ষ্য কর, ALPHA বাটনের কালার হচ্ছে Pink, তাহলে তোমাকে যদি Pink কালারের কোন মানের প্রয়োজন হয় তাহলে তোমাকে আগে ALPHA বাটন চাপতে হবে।

আমি যদি একটা উদাহরণ দিই,

তোমার A, B, C, D,  E, F, X, Y, M, এ ধরণের Pink কালারের মানের প্রয়োজন, তাহলে তোমাকে প্রথমে ALPHA বাটন চাপতে হবে, তার পর তোমার যে মানটি প্রয়োজন ঐ মানটির বাটন চাপলে মানটি ডিসপ্লেতে দেখা যাবে।

ব্রাইটনেস বাড়ানো বা কমানো:

আমরা যেমন মোবাইলের ডিসপ্লের ব্রাইটনেস বাড়াতে বা কমাতে পারি তেমনি ভাবে তুমি চাইলে তোমার সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরে ডিসপ্লের ব্রাইটনেস বাড়াতে বা কমাতে পারো। এটি আমাদের বেশি প্রয়োজন হয় যখন পরীক্ষা কেন্দ্রে সূর্যের আলো বেশি থাকে তখন।

ব্রাইটনেস বাড়ানোর জন্য তোমাকে ক্যালকুলেটরের Mode বাটনটি ৬ বার চাপতে হবে, (fx-991) তার পর দেখবে Disp-1 এবং  CONT-2 নামে দুইটি অপশান আসছে,

ক্যালকুলেটর

এখন তুমি CON-2 বা Contrast এর জন্য ২ নম্বর বাটন চাপতে হবে, তার পর দেখবে LIGHT এবং DARK নামে দুইটা অপশান আসছে।

Scientific Calculator price in bd

এখন তুমি তোমার ক্যালকুলেটরে REPLAY বাটনের Left বাটন চাপলে ডিসপ্লের আলো বাড়বে আর Right বাটন চাপলে ডিসপ্লের আলো কমবে। এভাবে তুমি তোমার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্রাইটনেস বাড়াতে বা কমাতে পারবে।

ভগ্নাংশ :-

তুমি যদি কোন সংখ্যাকে ভাগ কর আর যদি ভাগ ফল দশমিকে আসে, কিন্তু তোমার মান প্রয়োজন হচ্ছে সাধারণ ভগ্নাংশে, আর এ কাজটি চাইলে তুমি তোমার সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরে ও করতে পারো।

উদাহরণ:-১  তুমি যদি  ৯ কে ২৭ দ্বারা ভাগ কর তাহলে উত্তর আসবে ০.৩৩৩৩৩৩৩ অর্থাৎ  ৯/২৭= ০.৩৩৩৩৩৩৩  কিন্তু তোমাকে  দশমিকের মান না লিখে সাধারণ ভগ্নাংশ আকারে লিখতে হবে।  তার জন্য তুমি তোমার সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরে  ab/c এ বাটনটি চাপতে হবে, তার পর তোমার রেজাল্ট আসবে এ রকম

সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর

অর্থাৎ ১ হবে উপরে ৩ হবে নিচে, বা ৩ ভাগের ১

উদাহরণ:-২  আমি যদি ৩৪ কে ৬ দ্বারা ভাগ করি,  ৩৪/৬ = ৫.৬৬৬৬৬৬৬ এখন তোমার এ মান প্রয়োজন নেই । তোমাকে মানটি সাধারণ ভগ্নাংশ আকারে দেখাতে হবে, তার জন্য তোমাকে ক্যালকুলেটরের ab/c বাটনটি চাপতে হবে, দেখবে তোমার উত্তর আসবে

How to use scientific calculator bangla

এ রকম, এখন তোমার এখানে ৫ হবে সমস্ত আর ২ হবে উপরে আর ৩ হবে নিচে।

অর্থাৎ উত্তর হবে ৫ সমস্ত ৩ ভাগের ২

দশমিকে রেজাল্ট:-

আমাদের অনেক সময় ছোট সংখ্যাকে অনেক বড় সংখ্যা দ্বারা ভাগ করতে হয়। বিশেষ করে  যখন আমরা, মুনাফা এবং ফিন্যান্স এর অংকগুলো করতে যাই তখন আমাদের এ সমস্যাটা বেশি হয়। যেমন: তুমি যদি ১ কে ১০৫ দ্বারা ভাগ কর তাহলে রেজাল্ট আসবে, নিচের ছবির দিকে ভাল করে লক্ষ্য কর।

How to use scientific calculator in bangla

কিন্তু এ মানটি তোমার প্রয়োজন নেই । তোমার প্রয়োজন হচ্ছে মানটি যাতে দশমিকে আসে। তার জন্য তোমাকে তোমার ক্যালকুলেটর থেকে Mode বাটনটি ৫ বার চাপতে হবে, তার পর দেখবে Norm-3 নামে একটা অপশান আসবে, তুমি ৩ নম্বর বাটন চাপ দাও, দেখবে আবার Norm 1~2 নামে দুইটা অপশান আসছে, এখন তোমাকে ২ নম্বর বাটন চাপতে হবে। আর ২ নম্বর বাটন চাপলে তোমার কাজ শেষ।

এখন তুমি আবার ১ কে ১০৫ দ্বারা ভাগ করে দেখবে রেজাল্ট আসবে দশমিক সংখ্যায়।

ক্যালকুলেটর টিপস

ক্যালকুলেটর Reset দেওয়ার পদ্ধতি:-

তোমাদের হাতে থাকা স্মার্ট ফোন যেমন কয়েক মাস পর পর Reset দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তেমনি ভাবে তোমাদের সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর কয়েক দিন পর পর অথবা পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার আগে Reset দিতে হয়।

ক্যালকুলেটর  Reset দেওয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে ফাংশান এলোমেলো থাকলে তুমি যোগ, বিয়োগ, গুণ ভাগ অর্থাৎ কোন হিসাবই সঠিক ভাবে করতে পারবেনা। বিশেষ করে বাসায় যদি ছোট ভাই বোন থাকে তাহলে তারাই বেশির ভাগ সময় আন্দাজে টিপে ক্যালকুলেটরের ফাংশান এলোমেলো করে রাখে। এটা ঠিক করার জন্য তোমাকে Reset দিতে হবে।

Reset দেওয়ার জন্য তোমাকে প্রথমে তোমার ক্যালকুলেটরের CLR অর্থাৎ Clear বাটনটি খুজে বের করতে হবে। তার পর লক্ষ্য কর CLR লেখাটি কোন কালারের  যদি Yellow হয় তাহলে তোমাকে SHIFT বাটন আগে চাপতে হবে, তার পর CLR বাটন চাপলে যে অপশান  আসবে, সেখান থেকে তুমি All-3 অর্থাৎ ৩ নম্বর বাটন চাপতে হবে,

সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর

তার পর সমান = চিহ্ন চাপ দিলে Reset হয়ে যাবে।

এখন তোমার ক্যালকুলেটর নতুন কিনার পর ফাংশন যেমন ছিল এখন তেমন হয়ে যাবে অর্থাৎ সব ফাংশন পূর্বের অবস্থানে চলে আসবে।

উৎপাদক করার নিয়ম সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরে

লসাগু এবং গসাগু ক্যালকুলেটর দিয়ে

Share this

2 thoughts on “সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম”

Leave a Comment

Your email address will not be published.